ইতিহাস গড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম নারী কমব্যাট লিডার হলেন ভাবনা কান্ত

ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করলেন স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত। ভারতের সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘টপ গান’ স্কুল থেকে প্রথম নারী হিসেবে তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে এক নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিকস অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্টে ২০ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সম্পন্ন করে তিনি এই বিরল সম্মান অর্জন করেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার এই ‘টপ গান’ স্কুল যুদ্ধবিমান চালকদের জন্য দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও অভিজাত প্রতিষ্ঠান। এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়, যেখানে প্রতি ১০০ জন ফাইটার পাইলটের মধ্যে মাত্র একজনকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ ২০ সপ্তাহের এই নিবিড় প্রশিক্ষণে আধুনিক আকাশযুদ্ধের কৌশল, নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানা, জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সূক্ষ্ম দক্ষতা অর্জন করতে হয়।
বর্তমানে ভাবনা কান্ত ভারতের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০ এমকেআই পরিচালনা করছেন। এর আগে তিনি কিংবদন্তি যুদ্ধবিমান মিগ-২১ বাইসন উড়িয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। মিগ-২১ থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই-তে উত্তরণ এবং এখন ‘টপ গান’ স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার এই যাত্রা তাঁর সামরিক জীবনের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
ভাবনা কান্তের এই অদম্য যাত্রার শুরু ২০১৬ সালে, যখন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রথমবারের মতো নারী ফাইটার পাইলট নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন ব্যাচের তিন সদস্য ভাবনা কান্ত, অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে যুদ্ধবিমান চালানোর গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৯ সালে ভাবনা কান্ত প্রথম ভারতীয় নারী পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধ অভিযান পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেন এবং ২০২১ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্টে অংশগ্রহণ করে নতুন ইতিহাস গড়েন।
বিহারের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ভাবনা আজ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণীর কাছে সাহসিকতার প্রতীক। পুরুষ-প্রধান এই সামরিক ক্ষেত্রে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দক্ষতা ও সাহসের কোনো লিঙ্গভেদ নেই। ‘টপ গান’ স্কুল থেকে তাঁর এই স্নাতক হওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার অভিজাত পাইলটদের তালিকায় প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের সামরিক ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
