AdvertisementAdvertisement

সহকর্মীকে ধর্ষণ মামলায় তরুণ তেজপালের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখল বম্বে হাইকোর্ট

এক কনিষ্ঠ সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ‘তেহেলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ সাংবাদিক তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার আদালত তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালে গোয়ার একটি নিম্ন আদালত তরুণ তেজপালকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। সেই বিতর্কিত রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। বিচারপতি নীলা গোখেল এবং বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের সমন্বয়ে গঠিত বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ৬২ বছর বয়সী তরুণ তেজপাল জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ আদালতের এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাছে নমনীয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দাবি করেন যে, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বিচারকাজের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের নভেম্বরে, যখন গোয়ায় আয়োজিত ‘থিঙ্কফেস্ট’ অনুষ্ঠানে এক বিলাসবহুল হোটেলের লিফ্‌টে এক তরুণী কর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। গোয়া পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, দুই দিন ধরে ওই তরুণীকে হেনস্থা করেছিলেন তেজপাল। যদিও তিনি বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, গোয়ার তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের সমালোচনা করার কারণেই তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তদন্তকারী সংস্থা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ইমেল বিনিময়ের নথিপত্রকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছিল। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ৩ হাজার পাতার চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারের বাইরেই ছিলেন। এই ঘটনায় তেজপাল ও তৎকালীন ম্যানেজিং এডিটর সোমা চৌধুরির বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছিল, যা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%