AdvertisementAdvertisement

আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযানে ৩৯৯ বেসামরিক নাগরিক হতাহত: রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সামরিক অভিযানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের সহায়তা মিশন বা ইউএনএএমএ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ৩৯৯ জন সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৭ জনের প্রাণহানি এবং ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ে আফগানিস্তানে সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘটিত সাধারণ মানুষের সকল হতাহতের ঘটনাই পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের ফল।

ইউএনএএমএ-র মানবাধিকার বিষয়ক এই প্রতিবেদনে নারী ও শিশুদের ওপর ভয়াবহ প্রভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে। হতাহতদের মধ্যে ৪০ জন নারী রয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১১২ জন শিশু এই সংঘর্ষের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ৮৬ জন আহত হয়েছে। শিশুদের এমন উচ্চহারে হতাহতের ঘটনাকে সংস্থাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের প্রাণহানির নেপথ্যে প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা ও স্থলপথে ভারী গোলাবর্ষণ। বিশেষ করে গত ২৮ জুন পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় সর্বাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল কুনার প্রদেশে চালানো গোলাবর্ষণেও বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ইউএনএএমএ শুধুমাত্র আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্তকরণ করে থাকে, তাই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঘটা কোনো ঘটনার তদন্তের এখতিয়ার তাদের নেই। তবুও আফগানিস্তানে নথিভুক্ত হতাহতের এই তথ্যসমূহ দেশটির কার্যত ক্ষমতাসীন প্রশাসন এবং পাকিস্তান সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সুদীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে। ইউএনএএমএ-র তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ১ হাজার ২১৬ জন সাধারণ মানুষ আহত এবং ৪৯৯ জন নিহত হয়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, সামরিক অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হতাহতের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা পরিস্থিতিকে এক সংকটময় অবস্থায় নিয়ে গেছে।

ইউএনএএমএ তাদের প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়াতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং যুদ্ধের নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা কমিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%