আন্দোলন পরবর্তী উদ্যাপনের ভিডিও ঘিরে সিজেপি-তে তীব্র বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র সাম্প্রতিক আন্দোলনের সাফল্য ও পরবর্তী উদ্যাপন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরপরই দলের শীর্ষ নেতাদের নাচ-গান ও উল্লাসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ইউটিউবার মেঘনাদ, যারা নেতৃত্বের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আন্দোলন চলাকালে সিজেপি-র মঞ্চে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক ভাইরাল হওয়া ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যেকোনো অর্জনের পেছনে বিনয় ও নম্রতার প্রতিফলন থাকা আবশ্যক। তাঁর মতে, আন্দোলনের সাফল্য অর্জনের চেয়েও সেই সাফল্যকে মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উদযাপন করা বেশি জরুরি। সাফল্যের মুহূর্তেও সংযম বজায় রাখাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তীব্র সমালোচনা করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জনপ্রিয় ভাষ্যকার মেঘনাদ। ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর অনেক স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থী দিল্লির রাস্তায় চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকলেও সিজেপি নেতৃত্ব তা উপেক্ষা করে উদ্যাপনে ব্যস্ত ছিলেন। মেঘনাদ দাবি করেন, প্রায় ৭০ জনের বেশি আন্দোলনকারীর খাবার ও আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের তহবিল থেকে খরচ করে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেছেন। নেতৃত্বের এমন উদাসীনতাকে ‘প্রথাগত রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সিজেপি সমর্থকদের একাংশও এই উদ্যাপনকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের পর স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্দশাকে পাশ কাটিয়ে এমন উৎসব পালন করাকে অনেকেই দলের নীতিনৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সমাজমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষার প্রতিফলন মাত্র। তাঁর ভাষ্যমতে, নাচ-গানের মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানানো যায় এবং এটি তাদের প্রজন্মের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। সৌরভ দাস দাবি করেন, পুরো অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল স্বেচ্ছাসেবকদের সংবর্ধনা দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা করা। কিন্তু অনুষ্ঠানের সেই অংশটি প্রচার না পেয়ে শুধুমাত্র নাচ-গানের দৃশ্যটি সামনে আসায় জনমনে ভুল বার্তা তৈরি হয়েছে।
ভারতের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা সিজেপি-র অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে নেতৃত্বের উদ্যাপন ও অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অসহায়ত্ব—এই দুই মেরুর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে এখন চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ ও সমালোচনা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস