প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের আবহে বড় ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দেশে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোদীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক নিট-ইউজি (এনইইটি-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় স্বীকার করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট সংসদেও সরব হয়েছেন। এছাড়া, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দীর্ঘ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানান, ২৫ দিনের অনশনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন লিখিত নিশ্চয়তা পেলেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও সংকট নিরসনে এটি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুতায়ন নয়, বরং ভবিষ্যতে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সুদৃঢ় ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%