ইন্টারনেট বিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দিল্লি পুলিশের নজরদারি চ্যালেঞ্জ ও তদন্ত শুরু

ভারতের রাজধানীতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস ও যন্তর মন্তরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার পরেও আন্দোলনকারীরা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্দরে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ইন্টারনেট বা সেলুলার নেটওয়ার্ক ছাড়াই ব্লুটুথ প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ কিছু অ্যাপ ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীরা এই যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

বিজ্ঞাপন

দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনসহ নেপাল, ইরান, উগান্ডা, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান এবং মালয়েশিয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও একই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গিয়েছিল। মূলত ‘ব্লুটুথ লো এনার্জি’ বা বিএলই মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আধুনিক স্মার্টফোনে থাকা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি শৃঙ্খল তৈরি করে ইন্টারনেট ছাড়াই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য রিয়েল-টাইমে নজরদারি চালানো অত্যন্ত দুরূহ করে তুলেছে।

বিক্ষোভের নেপথ্যে কোনো বৃহত্তর চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ভারতের দিল্লি পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পুরো ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণের জন্য পুলিশের অ্যান্টি-টেরর ইউনিটকে মাঠে নামানো হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিভাইস রেকর্ড বা আইপিডিআর যাচাই, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই মিছিলে যোগ দিতে ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানীতে সমবেত হয়েছিলেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও আন্দোলনের পরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর গোয়েন্দা সংস্থা থেকে কোনো আগাম তথ্য দিল্লি পুলিশকে সরবরাহ করা হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশ এখন এই ধরনের অ্যাপগুলোর পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%