একুশে জুলাই কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

একুশে জুলাইয়ের ঘটনাকে পুঁজি করে অতীতের শাসকরা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী নাম না করেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই প্রতিবেদন কেবল শুরু, ভবিষ্যতে আম্পান দুর্নীতি ও কোভিডকালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় অনিয়মের মতো গুরুতর নথিও প্রকাশ করা হবে।
বিধানসভায় পেশ করা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন এবং আহতদের পরিবার যদি নতুন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়, তবে সরকার তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তকে পরবর্তীতে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ঘটনার প্রধান সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমিশনের মুখোমুখি হতে হয়নি, যা এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, একুশে জুলাইয়ের আবেগকে রাজনৈতিক সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে একশ্রেণির নেতা অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধি, বিদেশে চোখের চিকিৎসা, বিলাসবহুল চাটার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণ থেকে শুরু করে হারিশ চ্যাটার্জি ও হারিশ মুখার্জি স্ট্রিটে ৩৮টি প্লট এবং প্রাসাদতুল্য অট্টালিকা নির্মাণের মতো ঘটনা ঘটেছে। বাংলার ১১ কোটি মানুষের কাছে সেই রক্তঝরা দিনের প্রকৃত সত্য আজও অজানা রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অতীতের সরকারের কর্মকাণ্ডের যাবতীয় তথ্য এখন বর্তমান সরকারের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আম্পান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বিতরণে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগের প্রতিবেদন এবং কোভিড মহামারি মোকাবিলায় কেনাকাটার অনিয়ম সংক্রান্ত সব নথিপত্র জনসমক্ষে আনা হবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত সেইসব নথির সত্য উন্মোচন করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সামনে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ খুলে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস