অবৈধ অভিবাসী ট্রাক চালক হটিয়ে সাবেক সেনাসদস্য নিয়োগের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন নীতি নিয়ন্ত্রণে এক চরম কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ থেকে অবৈধ অভিবাসী ট্রাক চালকদের বিতাড়িত করে তাদের স্থলে দেশের যুদ্ধফেরত প্রাক্তন সেনাসদস্যদের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। গত ১ জুলাই পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে এক ট্রাক দুর্ঘটনায় ট্রুপার মাইকেল ই পাহিরা জুনিয়র নিহত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ঘোষণা দেশটির পরিবহন খাতে বড় ধরনের অস্থিরতার আভাস দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনার পর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অনেক চালকই ট্রাফিক চিহ্ন বুঝতে অক্ষম এবং মাদক কিংবা অ্যালকোহলে আসক্ত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অযোগ্য ও অনিবন্ধিত চালকদের কারণে মার্কিন নাগরিকরা প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি অবৈধ অভিবাসীদের হটিয়ে দেশপ্রেমিক ভেটেরান্সদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রাক্তন সেনাসদস্যরা এখন থেকে কোনো বাড়তি পরীক্ষা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় অভিবাসী এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য ও নর্থ আমেরিকান পাঞ্জাবি ট্রাকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ট্রাক চালক ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা। ট্রাম্পের নতুন এই কঠোর নীতি কার্যকর হলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চালকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ডালিলাহ আইন’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই আইনের আওতায় যারা অবৈধভাবে মার্কিন সীমান্তে প্রবেশ করেছেন, তাদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং বিদ্যমান লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং সড়ক নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো মার্কিন পরিবহন শিল্পের চাকা সচল রাখা ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস