কর্মী চড়কাণ্ডে মমতার পাশে কুণাল ঘোষ, তর্কমূলক বিতর্কে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দলীয় কর্মীকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার একটি মিছিলে বিশৃঙ্খলার মাঝে মুখ্যমন্ত্রীকে একজন কর্মীর গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়, যা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। তবে এই ঘটনাকে ‘অভিভাবকসুলভ আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

বিজ্ঞাপন

কুণাল ঘোষের ভাষ্যমতে, মিছিলের ভিড় সামলে গুরুতর আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য পথ তৈরির চেষ্টা করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি প্রয়োজনে কোনো সন্তানকে সরিয়ে দিয়ে অন্য সন্তানের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কুণাল বলেন, আহতদের উদ্ধারের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ মানবিক এবং এটি সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো বিতর্কের বিষয় হতে পারে না।

এদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের একাংশ আবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কাউকে চড় মারেননি, বরং প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন। তৃণমূলের ওই নেতাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে অযথা জলঘোলা করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।

অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বুধবারের মিছিলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে বিজেপি। কুণাল ঘোষ তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, বেশ কয়েকজন তরুণী কর্মীকে ঘিরে বিজেপি কর্মীরা দুর্বৃত্তের মতো আচরণ করেছে। তিনি দলের ছাত্র ও যুব কর্মীদের সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বিজেপির এই কাপুরুষোচিত আচরণ প্রমাণ করে যে তারা তৃণমূলের মূল শক্তির কাছে ভীত।

বিজ্ঞাপন

পাল্টা জবাবে বিজেপি দাবি করেছে, তৃণমূলের পুরো ঘটনাটিই সাজানো নাটক। নিজেদের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই ধরনের নাটক তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মতে, তৃণমূলের এই নাটক অত্যন্ত কাঁচা এবং জনসমর্থন হারানোর ভয়ে তারা এখন নতুন নতুন বিতর্কের আশ্রয় নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%