রাম মন্দির চুরির দায় এড়াতে পারেন না চম্পত রাই, মন্তব্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতির

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ কেন্দ্রিক অনুদান তছরুপ ও চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর অন্দরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এই আবহে সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার সাফ জানিয়েছেন, রাম মন্দিরের চুরির দায় চম্পত রাই কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না এবং তাঁর গাফিলতি স্পষ্ট। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অলোক কুমার বলেন, রাম মন্দিরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজকে গভীরভাবে আহত করেছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি অবিলম্বে একটি এফআইআর দায়ের করা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা এবং ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে প্রতিদিন বিচারের মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই ঘটনায় কোনো ধরনের অজুহাত খুঁজছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া প্রসঙ্গে অলোক কুমার দাবি করেন, রাম মন্দির নির্মাণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব সরাসরি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাতে নেই। চম্পত রাইকে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদে সংগঠনের পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনার দায়ভার সংগঠনের ওপর চাপানোর চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই কিছু মহল অহেতুক ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং সঙ্ঘ পরিবারকে জড়িয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অলোক কুমার জানান, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। চম্পত রাইকে কেন বরখাস্ত করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। চম্পত রাইয়ের ভূমিকা তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ছোট বা বড়, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, অযোধ্যা কাণ্ড নিয়ে সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিপরীতমুখী অবস্থান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অলোক কুমার স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় থাকবেন। এরপরই চম্পত রাইয়ের ভবিষ্যৎ এবং সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস