আইপিএল: গতিপ্রবাহে লাইন-লেন্থ, অমীমাংসিত প্রশ্ন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে (এলএসজি) তাদেরই ঘরের মাঠে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। এই জয়ে আরসিবি আট পয়েন্ট এবং +১.৫০৩ নেট রান রেট নিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। মূলত জশ হ্যাজেলউডের বিধ্বংসী বোলিং এবং বিরাট কোহলির কার্যকর ব্যাটিংয়ে ভর করে আরসিবি এই দাপুটে জয় নিশ্চিত করে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাটিংয়ে নেমে এলএসজি পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হয়, কারণ আরসিবির পেসাররা লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে অনবদ্য বোলিং প্রদর্শন করেন। রসিক সালাম চারটি এবং ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি উইকেট শিকার করলেও, ১ রানে ২০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন জশ হ্যাজেলউড। এরপর ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠে নেমে বিরাট কোহলি ৩৪ বলে ৪৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে এলএসজির জয়ের সকল সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেন।

ম্যাচের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এলএসজি অধিনায়ক ঋষভ পন্ত ব্যাট করার সময় গুরুতর আঘাত পান। হ্যাজেলউডের বলে ক্রস-ব্যাটেড শট খেলার প্রচেষ্টায় তিনি প্রথম বল মিস করেন এবং তার ডান হাতের কনুইয়ে দুটি মারাত্মক আঘাত লাগে। প্রাথমিকভাবে ব্যথা আড়াল করার চেষ্টা করলেও, দ্রুতই তার যন্ত্রণার মাত্রা প্রকট হয়ে ওঠে। প্যাট্রিক ফারহার্টের ম্যাজিক স্প্রেও তার ব্যথা কমাতে ব্যর্থ হলে, এক পর্যায়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। যদিও তিনি ব্যান্ডেজ নিয়ে পুনরায় মাঠে ফিরে আসেন, কিন্তু মাত্র ১ রান যোগ করেই ফিল সল্টের এক অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন।

এদিনের ম্যাচে আরসিবির বোলিং নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। হ্যাজেলউড পাওয়ারপ্লেতে নিজের স্বাভাবিক দাপট দেখিয়েছেন, যা দলের আধিপত্য বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। চিদাম্বরম স্টেডিয়ামকে নিজেদের দুর্গে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরসিবির সাম্প্রতিক সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। গত মরসুম থেকে শুরু করে টানা পাঁচটি হোম ম্যাচ জিতেছে তারা, যা ২০১৩ সালের পর ঘরের মাঠে তাদের দীর্ঘতম জয়যাত্রা। বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সম্মিলিত পারফরম্যান্স এই সাফল্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

বিরাট কোহলি ম্যাচ শেষে জানান, গত কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর তিনি এখন অনেক ভালো অনুভব করছেন এবং আগের ম্যাচে তার হাঁটুতে সামান্য ব্যথা ছিল। অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসকে নিয়ে তার একটি মন্তব্য বেশ কৌতূহল জাগায়: “আমি তাকে সবসময় বলি, তুমি পরিস্থিতির চেয়ে বরং বোলারের হৃদস্পন্দন পরিমাপ করতে বেশি আগ্রহী।” কোহলি আরও যোগ করেন যে রজত পাটিদার ক্রিজে থাকলে বোলারের হৃদস্পন্দন সাধারণত অনেক বেড়ে যায়।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার বিজয়ী জশ হ্যাজেলউড তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচেই তিনি ছন্দ ফিরে পেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “আজকের উইকেট বেশ মন্থর ছিল এবং বল কিছুটা অসমানভাবে উঠছিল, তাই আমি শুধু সঠিক লেন্থে আঘাত করে ফল পেতে চেয়েছিলাম।”

অন্যদিকে, এবারের আইপিএল ২০২৬-এ এলএসজির নিকোলাস পুরানের ফর্ম দলের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাঁচ ইনিংসে তিনি মাত্র ৪২ রান করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ৭৬.৩৬ এবং ডট বলের শতাংশ ৬০। এই ক্রমাগত ব্যর্থতা এলএসজিকে বেশ ভোগাচ্ছে।

এই সপ্তাহের অন্য এক ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই) মুখোমুখি হবে পাঞ্জাব কিংসের (পিবিকেএস)। সকলের দৃষ্টি থাকবে জসপ্রীত বুমরাহর দিকে, যিনি এই মৌসুমে এখনো কোনো উইকেট পাননি। এছাড়া, আগের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে রোহিত শর্মার এই ম্যাচ মিস করার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বুমরাহ হ্যাটট্রিক করে তার সমালোচকদের জবাব দেবেন।

তথ্যসূত্র: ক্রিক বাজ

0%
0%
0%
0%