বিধাননগরের হাসপাতালের নামকরণে বিধানচন্দ্র রায়, পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর

জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন ভারতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি চিকিৎসক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবার দৈন্যদশা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’ রাখার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি পুরনো মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, অতীতে দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্যোতি বসু জানিয়েছিলেন, তিনি যেখানেই হাত দিচ্ছেন সেখানেই ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের উন্নয়নমূলক কাজের ছোঁয়া পাচ্ছেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেন, তিনি যেখানেই হাত দিচ্ছেন, সেখানেই পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলার চিত্র ফুটে উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে উন্নয়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভাজন ও চরম অবহেলা প্রাধান্য পেয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল দশা ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বহু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, শয্যার অভাব এবং অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা যে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পঙ্গু করে দিয়েছে, সেই বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
রাজ্যের মেধাবী চিকিৎসকদের অবদানের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাঙালি চিকিৎসকরা ইউরোপসহ বিদেশের মাটিতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন, অথচ এই রাজ্যের হাসপাতালগুলো সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভিনরাজ্যে ছুটে যেতে হবে কেন, তা ভাবনার বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের বিভাজন দূর করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালে নজরদারির জন্য স্বাস্থ্য ভবনে একটি নতুন কন্ট্রোল রুম এবং নবরূপে সজ্জিত প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া নদীয়া জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের সূচনা এবং জরুরি প্রয়োজনে পরিষেবার মানোন্নয়নে ২০০টি অ্যাম্বুল্যান্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও রাজারহাট-নিউটাউনের পীযূষ কানোরিয়ার হাতে ‘নিক্ষয়মিত্র’ সার্টিফিকেট তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস