সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির তদন্তে ইডির নজর, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সোনা ও সম্পদের হদিশ

বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তোলাবাজির মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। কলকাতা পুলিশের তদন্তে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, অসংলগ্ন আর্থিক লেনদেন এবং কোটি টাকার সোনার হদিশ পাওয়ার পর বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজরে পড়েছে। পুলিশের এফআইআর এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহের মাধ্যমে ইডি ইতিমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি মাসের শুরুতে তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি জব্দ করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।

তদন্তের মোড় ঘুরে যায় নদীয়ার করিমপুরে তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতে পরিচালিত গত সোমবারের এক তল্লাশি অভিযানে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ওই অভিযানে সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পুলিশ প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। এই পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সব্যসাচী দত্তের দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সোনার হিসাব মেলাতে গিয়ে বিস্মিত তদন্তকারীরা। হলফনামা অনুযায়ী, সব্যসাচীর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের কাছে ৬৫ লক্ষ ১ হাজার ৬০৮ টাকা মূল্যের গয়না ছিল, যার ওজন এক কেজিরও কম। অথচ করিমপুর থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ ও মূল্য তাঁর স্ত্রীর ঘোষিত সম্পত্তির তুলনায় সাত গুণ বেশি। ইন্দ্রাণীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৭২ টাকা, যা উদ্ধার হওয়া সোনার বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়েও কম।

বিজ্ঞাপন

এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং তোলাবাজির অভিযোগের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর অনুসন্ধান চলছে। পুলিশের পাশাপাশি ইডির নজরদারি শুরু হওয়ায় সব্যসাচী দত্তের আইনি চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থ পাচার বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%