বীরভূমে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বিনিয়োগের আশায় শিল্পমহল

রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বীরভূম জেলার শিল্প মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সাঁইথিয়া ব্লকে একটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র বা ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যদিও প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গার নাম সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আমোদপুর চিনি কলের জমিকেই এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
আমোদপুর সুগার মিলের দীর্ঘদিনের অচল জমি এবং সেখানকার বিদ্যমান পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় এই কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চললেও পরবর্তীকালে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে গড়ে ওঠা শিল্প পার্কটিও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। এবার সরকারি মালিকানাধীন ওই বিস্তীর্ণ জমি ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা শিল্পের এই নতুন কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমোদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এই প্রকল্পের সাফল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। আহমেদপুর ও সাঁইথিয়া রেললাইনের সন্নিকটে হওয়ায় কাঁচামাল পরিবহন ও উৎপাদিত পণ্য দেশজুড়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া পানাগড় ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকায় লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় কোনো জটিলতা থাকবে না। জমিটি আগে থেকেই সরকারি হওয়ায় অধিগ্রহণজনিত দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কেবল বড় শিল্পই নয়, বরং বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং মেটাল ফ্যাব্রিকেশনের মতো আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশে স্থানীয় যুবকদের জন্য দক্ষতা-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে পারে। এছাড়া এই প্রকল্পের হাত ধরে পরিবহন, হোটেল ও গুদামজাতকরণ পরিষেবাসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে প্রকল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ, কী ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হবে কিংবা কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা এখনও প্রকাশ করেনি প্রশাসন। আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা কেবল বীরভূমের অর্থনীতিতেই নয়, বরং গোটা পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প প্রসারে এক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস