ঝড়-বৃষ্টির দাপটে নামল পারদ, দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় হলুদ সতর্কতা

বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা নেমেছে কলকাতার তাপমাত্রা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মহানগরীতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছালে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাবে বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.২ ডিগ্রি কম।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসমতে, বুধবার কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন মহানগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। মঙ্গলবারের তুলনায় আজকের বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কম হলেও বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বড় ধরনের ঝড়ের কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
তবে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় দুর্যোগের সতর্কতা বজায় রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই জেলাগুলোর জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কম থাকবে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলায় বুধবারের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের অধিকাংশ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের দু-একটি স্থানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে পুরো উত্তরবঙ্গজুড়ে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস