লখনউয়ে বহুতলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন ১৫ জন, স্বজনহারা বাঙালির পরিবারে শোকের ছায়া

ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সি তরুণী অনামিকা সামন্ত রয়েছেন। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং ভবনের ভেতরে আটকে পড়ে এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত জানিয়েছেন যে, গত তিন বছর ধরে অনামিকা লখনউতে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার আগের দিন সকালেও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। নিহতের পরিবার কলকাতা থেকে লখনউয়ে পৌঁছেছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে অনামিকার নিথর দেহ বুঝে নিয়েছে। কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় সড়কপথে অনামিকার মরদেহ পশ্চিমবঙ্গে তাঁর বাড়িতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
লখনউয়ের আলিগঞ্জের যে তিনতলা ভবনটিতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেখানে মূলত একটি গেমিং ও অ্যানিমেশন স্টুডিও পরিচালিত হতো। নিহতদের অধিকাংশই ওই স্টুডিওর কর্মী, প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষার্থী। লখনউয়ের মর্গে আসা শোকাতুর পরিজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। মৃত ১৫ জনের মধ্যে অনামিকা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরও একজন এবং মধ্যপ্রদেশের একজন বাসিন্দা রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় গাফিলতির দায়ে চারজন সরকারি কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া আলিগঞ্জ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও উত্তরপ্রদেশ ফায়ার সার্ভিস আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়, বীরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা ও তুষাক কৃষ্ণ জয়সওয়াল নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস