ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আজ বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ

রাজ্যের চরম আর্থিক সংকটের আবহে সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বিপুল ঋণের বোঝা সামলে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বাজেট অধিবেশনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে গণ্য করছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজ্যের মোট আয়ের প্রায় ৪২ শতাংশই প্রতি বছর ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে চলেছে।
বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে খবর। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি এবং জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিল্প ভর্তুকি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন সুবিধাসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সামাজিক প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকলেও পুজো বা মেলার মতো উৎসবের ক্ষেত্রে অহেতুক সরকারি ব্যয় হ্রাস করার ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে আর্থিক কঠোরতা অবলম্বনই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এরই মধ্যে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা স্বপন দাশগুপ্ত দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কেন্দ্রীয় সহায়তা ও জিএসটি বাবদ বকেয়া অর্থ আদায়ে সেখানে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে। আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব বাজেটে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে শিলিগুড়িতে এইমস, আইআইটি এবং আধুনিক ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট কেবল আগামী কয়েক মাসের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, বরং নতুন সরকারের উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন। ঋণের ভারে জর্জরিত রাজ্যকে কীভাবে আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা যায়, তার দিকনির্দেশনা মিলতে পারে এই বাজেটেই। তাই বিধানসভার এই অধিবেশন এখন শুধু রাজ্যবাসীর কাছেই নয়, জাতীয় স্তরেও বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস