ভারতীয় নৌবহরে যুক্ত হলো তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ শক্তিশালী হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে ভারতের নৌবহরের শক্তি ও সক্ষমতা আরও সুসংহত হলো। রবিবার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌসেনার হাতে তুলে দেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ নৌবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। জাহাজগুলোর নকশা প্রণয়ন করেছে নৌবাহিনীর নিজস্ব ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং এগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। উদ্বোধনের পর থেকেই এই অত্যাধুনিক নৌযানগুলো দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সরাসরি যুক্ত হয়েছে।
তিনটি জাহাজের মধ্যে অন্যতম হলো ‘দুনাগিরি’, যা প্রজেক্ট-১৭এ শ্রেণির একটি স্টেলথ ফ্রিগেট। শত্রুর রাডারের দৃষ্টি এড়িয়ে অভিযানে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা সুদূর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। ১৯৭৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নৌবহরে থাকা ঐতিহাসিক লিন্ডার-শ্রেণির ফ্রিগেটের স্মরণে এই জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা দ্বিতীয় জাহাজ ‘আইএনএস সংশোধক’ দেশের অন্যতম বৃহৎ সমীক্ষক নৌযান। গভীর সমুদ্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা এবং সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে এটিকে, যা প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক নৌপরিকল্পনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তৃতীয় জাহাজটি আর্নালা শ্রেণির একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ, যা অগভীর জলে শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। আধুনিক সোনার ব্যবস্থা, টর্পেডো এবং দেশীয় রকেট লঞ্চারে সজ্জিত এই জাহাজটি সমুদ্রতলের যেকোনো গোপন ঝুঁকি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
নৌসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জাহাজগুলোর নির্মাণকাজে ৭৫ শতাংশেরও বেশি স্বদেশি সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় প্রচুর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই তিন জাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতর নৌবাহিনীর রণকৌশলগত সক্ষমতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস