সন্ত্রাসবাদ ও সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬২তম অধিবেশনে পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারত। ইসলামাবাদ দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যে কৌশল অবলম্বন করেছিল, আজ তা বুমেরাং হয়ে তাদের নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে দানবকে পাকিস্তান নিজ হাতে সৃষ্টি করেছে, সেই দানবই এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে কাশ্মীর ইস্যু ও মানবাধিকার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ নিজ ভূখণ্ডে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ এবং চরম গণতান্ত্রিক সংকটের মতো গুরুতর বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে তারা সর্বদা তৎপর। ভারতের মতে, আন্তর্জাতিক নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান এই ধরণের নেতিবাচক কূটনীতির আশ্রয় নিচ্ছে।

একই সাথে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় আর কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। ভারত সরকার মনে করছে, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদের কারণে চুক্তির মৌলিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কোনো অবকাশ নেই বলে নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান অনড় রেখেছে।

উল্লেখ্য যে, পাহেলগাম হামলার পর থেকেই সিন্ধু জলচুক্তিকে কার্যত স্থগিতাবস্থায় রেখেছে ভারত। ভারতর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে প্রবাহিত জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভারত সরকার কাজ করছে। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী দাবি করলেও, নয়াদিল্লি পালটা যুক্তি দিচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক জলবণ্টন চুক্তি কখনোই বিচ্ছিন্ন বিষয় হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ভারতর এই কঠোর অবস্থান ইসলামাবাদের প্রতি বড় ধরনের কূটনৈতিক বার্তার বহিঃপ্রকাশ। সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতি যে অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলবে, ভারত তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে। মূলত, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনই যে এখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রধান নির্ধারক, তা এই কঠোর ভাষণের মাধ্যমে ভারত পুনর্ব্যক্ত করল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%