শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক ও কুণাল ঘোষের মন্তব্যে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা অধিবেশনের প্রারম্ভিক দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক সরাসরি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই দলে অন্যতম মুখ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ। বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়েছে।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী এবং কোনো প্রকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, তারা দিল্লির কোনো গ্যারেজে আশ্রয় গ্রহণকারী রাজনীতিক নন। উল্টো শিবিরের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির ওপরই আস্থা রাখেন।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের সংকটে পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। হকার উচ্ছেদ কিংবা মহিলাদের নিরাপত্তা ইস্যু—সব ক্ষেত্রেই বিরোধী দলনেতার নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট। নাম না করে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ব্যাকডোর বা পেছনের দরজা দিয়ে ষড়যন্ত্রকারী নেতাদের তারা সমর্থন করেন না।
বিধানসভায় কথা বলার জন্য সময় বরাদ্দ নিয়ে কুণাল ঘোষ জানান, তিনি কোনোভাবেই বিরোধী দলনেতার মুখাপেক্ষী হয়ে সময় চাইবেন না। নওশাদ সিদ্দিকী, সিপিএম বা কংগ্রেসের মতো পৃথকভাবে সময় পাওয়ার দাবি জানাবেন তারা। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শাসক দল হিসেবে এই সরকারকে গঠনমূলক বিরোধিতার মাধ্যমে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।
হকার উচ্ছেদসহ জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে উল্লেখ করে কুণাল ঘোষ জানান, বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পন্থী বিধায়কদের এই অবস্থান পরিবর্তনের আভাস রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস