এনবিএ তারকাদের বাজি কেলেঙ্কারি আদালতে ম্যালিক বিজলি ও এড ডেভিসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

এনবিএ বা ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন তারকা মালিক বিজলি ও এড ডেভিসসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্রীড়া জুয়া সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুতর জালিয়াতির চক্রে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এক এনবিএ এজেন্টও জড়িত রয়েছেন।
আইনি নথি অনুযায়ী, মিলওয়াকি বাকসের হয়ে খেলার সময় ২০২৩-২৪ মৌসুমে অন্তত ৩টি ম্যাচের পরিসংখ্যান প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন মালিক বিজলি। মিনেসোটা টিম্বারউলভসের হয়ে খেলার সময় থেকেই ডেভিসের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বিজলির। সেই সুবাদে জুয়ার বিশাল অংকের ঋণ পরিশোধের চাপ থেকে বাঁচতে এবং ডেভিসের প্ররোচনায় বিজলি খেলার মাঠে নিজের পারফরম্যান্স খর্ব করার পথ বেছে নেন। তদন্তকারীদের দাবি, ডেভিস তাকে উদ্ধৃত করে মেসেজ দিয়েছিলেন যে, বেটিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হওয়াই সম্পদ অর্জনের একমাত্র পথ।
এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম নজির পাওয়া যায় ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি মিলওয়াকি বাকস ও ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সের মধ্যকার ম্যাচে। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিবাইন্ডের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার নিচে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজলি। পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনি মাত্র ৩টি রিবাইন্ড সংগ্রহ করেছেন, যা বেটিং মার্কেটের ৩.৫ সীমার নিচে ছিল। এই জালিয়াতির মাধ্যমে অভিযুক্তরা কয়েক হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার ডেভিসসহ উইলিয়াম ব্রাউন, রব গোরোডেটস্কি এবং আর্নেস্তো প্লাসেনসিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মালিক বিজলি এবং এনবিএ এজেন্ট পাওলো জামোরানো সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশের হাতে আটক হননি।
দীর্ঘ ৯ বছরের এনবিএ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলা বিজলি খেলোয়াড়ি জীবনে প্রায় ৬ কোটি ডলার আয় করেছেন। অন্যদিকে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১২ মৌসুম খেলা ডেভিসের আয় প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার। তবে এমন উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের পরেও জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ে এখন আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছেন এই প্রাক্তন তারকারা। যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে এনবিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।