ইবোলা আতঙ্কে গোমা-গিসেনি সীমান্ত বন্ধ: বিপাকে হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর গোমা এবং রুয়ান্ডার গিসেনি শহরের মধ্যবর্তী ‘পেতিত ব্যারিয়ার’ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবিকার সন্ধানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ১৬ মে গোমায় ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথটি বন্ধ করে দিয়েছে রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। বিশ্বব্যাংকের ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এই সীমান্ত দিয়ে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন, যাদের বড় একটি অংশই ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো কঙ্গো থেকে আগতদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রুয়ান্ডা এমন সব ভ্রমণকারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যারা গত ৩০ দিনে কঙ্গোতে অবস্থান করেছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ইবোলা মোকাবিলায় সীমান্ত বন্ধ করা কোনো কার্যকর সমাধান নয় বরং এটি জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক ড. এলি বাজো এ প্রসঙ্গে আল-জাজিরাকে জানান, সীমান্ত বন্ধ না করে বরং প্রবেশ পথগুলোতে কঠোর নজরদারি ও স্ক্রিনিং জোরদার করা রোগ প্রতিরোধের জন্য অধিক কার্যকর কৌশল।

সীমান্ত বন্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মরিয়ল ইহোরা নামের তিন সন্তানের জননী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, আগে তিনি ভোরে সীমান্ত পেরিয়ে রুয়ান্ডা থেকে পণ্য এনে গোমায় বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন সেই পথ বন্ধ থাকায় তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। ফুরাহা কিজা ও ফাতুমা মাপেন্দোর মতো অনেক নারী ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসার মূল জোগান আসত রুয়ান্ডা থেকে। সীমান্ত বন্ধের ফলে তাদের আয় এখন তলানিতে ঠেকেছে, যা তাদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে।

গোমার অর্থনৈতিক বিশ্লেষক গুস্তাভ বোলিঙ্গোর মতে, আগে থেকেই অর্থনৈতিকভাবে নাজুক এই অঞ্চলে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। এদিকে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এলাকায় ইবোলার প্রকোপ নেই। ইবোলা রেসপন্স টাস্ক ফোর্সের প্রধান ডা. ফ্রেডি কানি কি দাবি করেছেন যে, সেখানে এখন আর কোনো সক্রিয় রোগী নেই, ফলে সীমান্ত খুলে দেওয়া সময়ের দাবি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রতিবন্ধী ট্রেডারদের সংগঠনগুলো সীমান্ত চালুর লক্ষ্যে রুয়ান্ডা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ইবোলা প্রতিরোধের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা পুনরায় সীমান্ত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কবে নাগাদ এই অচলাবস্থা কাটবে এবং হাজার হাজার ব্যবসায়ী আবার তাদের কর্মসংস্থানে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%