৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী

ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে চলমান আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারাও এই সময়সীমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা আসে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখটি চূড়ান্ত এবং অমোঘ। ১ অক্টোবর থেকে ইরাক নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে দেশটির ভূখণ্ডে আর কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অস্তিত্ব থাকবে না।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতে, রাষ্ট্রের সকল অস্ত্রশস্ত্র এককভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই এখন দেশটির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার পূর্বশর্ত। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উভয় পক্ষ এই সময়সীমার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন কিংবা তাদের কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৈশ্বিক জোট অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন পেশমার্গা ও ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীসহ ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীই সন্ত্রাসবাদ দমনে মূল ভূমিকা পালন করবে। মূলত ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের লক্ষ্যে চালানো মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে ইরাকে বিদেশি বাহিনীর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে দুই দশকেরও বেশি সময় পর।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যদিও ২০১৪ সালে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল-এর উত্থানের পর ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন বাহিনী পুনরায় দেশটিতে ফিরে আসে। দীর্ঘ কয়েক বছর সংঘাতের পর বর্তমানে জঙ্গি গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় এই সামরিক মিশনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে বলে মনে করছে উভয় পক্ষ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
