হাইতির ঐতিহাসিক সিটাডেল লাফারিয়ারে পদদলনে নিহত অন্তত ৩০ জন

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে চিহ্নিত একটি দুর্গে বার্ষিক উদযাপনের পূর্বে ব্যাপক ভিড় জমেছিল। হাইতির উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় এক পদদলিত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাইতির নর্ড ডিপার্টমেন্টের সিভিল প্রোটেকশন প্রধান জ্যাঁ আঁরি পেতিত জানান, শনিবার সিটাডেল লাফেরিয়ার নামক স্থানে পদদলিত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে। এটি ফ্রান্স থেকে হাইতির স্বাধীনতার অল্প পরেই নির্মিত উনিশ শতকের গোড়ার দিকের এক দুর্গ।

হাইতির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ ‘লা সিটাডেল’ ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মনোনীত হয়। বার্ষিক এই উদযাপনে অংশ নিতে দুর্গটিতে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে এক বিবৃতিতে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাদের শোক ও কষ্টের সময়ে গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘লা সিটাডেল’-এর উদযাপনে ‘অনেক তরুণ’ উপস্থিত ছিলেন, যদিও কারা মারা গেছেন তা এখনও জানা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো অনুমান দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পেতিত জানান, পদদলিত হওয়ার ঘটনাটি স্থানের প্রবেশপথে ঘটেছে এবং বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছিল।

সংস্কৃতি ও যোগাযোগমন্ত্রী এমানুয়েল মেনার্ড এএফপি সংবাদ সংস্থাকে লিখিত বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল শনিবার সিটাডেল লাফেরিয়ার-এ ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেনার্ড আরও জানান, আহতরা বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এবং একটি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছে। তবে তিনি আহতদের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করেননি।

এই মারাত্মক ভিড়ের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন হাইতি বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যা করা গ্যাংদের ব্যাপক সহিংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান মারাত্মক দমন-পীড়নের সঙ্গে লড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপরাষ্ট্রটি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয়েরও শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কের বিস্ফোরণ, যাতে ২৪ জন নিহত হন; ২০২১ সালে আরেকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কের বিস্ফোরণ, যা ৯০ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়; এবং একই বছর একটি ভূমিকম্পে প্রায় ২,০০০ মানুষ মারা যান।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%