AdvertisementAdvertisement

গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি ঘিরে চরম সতর্কতা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সংকটময়

গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দেশটির কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আসন্ন ৭২ ঘণ্টা সময়কালকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা কনরেড। আগ্নেয়গিরির পাদদেশ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ লাভা ও কাদার স্রোত নেমে আসার সম্ভাবনা থাকায় নিকটবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মধ্য আমেরিকার অন্যতম সক্রিয় এই আগ্নেয়গিরি থেকে গত সোমবার শুরু হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের রেশ এখনো কাটেনি। ছাই, গ্যাস ও উত্তপ্ত লাভা নির্গমনের ঘটনা মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। এই পরিস্থিতিতে সাকাতেপেকুয়েজ, এস্কুইন্তলা ও চিমালতেনাঙ্গো—এই তিনটি পৌরসভায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রায় ২৯ হাজার মানুষ অগ্ন্যুৎপাতজনিত ছাইয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কনরেডের নির্বাহী পরিচালক ক্লদিন ওগালদেস স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আগ্নেয়গিরির নিকটবর্তী ১৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়কটি নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে, সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে ওই অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন মানুষ এখনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাহাড় থেকে কাদার স্রোত নামার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় গুয়াতেমালা নিয়মিতভাবে অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি এর আগেও একাধিকবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাত ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী, যেখানে সান মিগুয়েল লস লোটেস ও এল রোদেও গ্রাম দুটি উত্তপ্ত ছাইয়ে চাপা পড়ে ১৯৪ জনের মৃত্যু হয় এবং নিখোঁজ হন আরও ২৩৪ জন। গত বছরও অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%