AdvertisementAdvertisement

পালান্টিয়ারের আয় ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি, বিতর্কিত সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বাড়ছে উদ্বেগ

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুর্দান্ত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট পালান্টিয়ার টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির জেরে বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮.১৫ বিলিয়ন থেকে ৮.১৫৮ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি, যা আগের ৭.৬৫ বিলিয়ন থেকে ৭.৬৬২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প এই প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে ‘অসাধারণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ব্যবসায়িক সাফল্যের শীর্ষে থাকলেও, বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিলিকন ভ্যালির এই প্রতিষ্ঠানের। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে শত শত কোটি ডলারের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় সংস্থাটি বরাবরই সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, পালান্টিয়ারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ বহিষ্কার এবং হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ২০০৩ সালে অ্যালেক্স কার্প ও পিটার থিলের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন বৈশ্বিক সামরিক প্রযুক্তির বাজারে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গাজায় চলমান সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানের সঙ্গে পালান্টিয়ারের সরাসরি সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ওপেন ইন্টেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভিজাত ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক সাইবার গোয়েন্দাদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইন্টারসেপ্ট করা যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ঘোষণা করার পর থেকে এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যেও পালান্টিয়ারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩২৩ মিলিয়ন ডলার বা ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি গত নভেম্বরে এনএইচএস বা জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে ৪৪৪ মিলিয়ন ডলার বা ৩৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং চুক্তির নথিপত্র গোপন রাখার ঘটনায় দেশটির নাগরিক সমাজ ও প্রচারকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রযুক্তি বিশ্বে পালান্টিয়ারের ভবিষ্যৎ দর্শন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের লেখা সাম্প্রতিক বই ‘দ্য টেকনোলজিক্যাল রিপাবলিক’-এ উন্নত সামরিক এআই সক্ষমতা তৈরির পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। সমালোচকরা এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিবাদ’ বা প্রযুক্তি-ফ্যাসিবাদের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। আল-জাজিরার পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও, পালান্টিয়ারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%