শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেয়াদের দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই তা কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিলতা ধরা পড়েছে। এই রোগের কারণে মাঝেমধ্যেই তিনি সাময়িক জ্ঞান হারানোর সমস্যায় ভুগছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাহাবুদ্দিনের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের উত্তাল সময়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত মে মাসে লন্ডন সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তিনি তা বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরার গুঞ্জন রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে উচ্চপর্যায়ের সরকারি দায়িত্বে হাসিনামুক্ত এক নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক, যেখানে নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%