ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সাহসী কমান্ডার মিখাইলো দ্রাপাতয়ি

ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে এসেছে বড় ধরনের রদবদল। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী কর্নেল মিখাইলো দ্রাপাতিকে। ২০১৪ সালে মারিউপোল শহরে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যারিকেড ভেঙে নিজের সাঁজোয়া যান চালিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা এই সাহসী সেনা কর্মকর্তা এখন দেশটির যুদ্ধের মূল সেনাপতি। তিনি বিদায়ী জেনারেল ওলেক্সান্দ্র সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মুখে কিয়েভের পতন ঠেকিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মিখাইলো দ্রাপাতির সামরিক দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রমাণ মিলেছে বহুবার। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহ-এর দিকে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা রুখে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রাপাতি প্রথাগত সোভিয়েত আমলের রণকৌশল পরিহার করে আধুনিক পশ্চিমা যুদ্ধপদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলে বিশ্বাসী। বর্তমানে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের যুগে বিশাল সেনা সমাবেশের চেয়ে তার এই উদ্ভাবনী ও আধুনিক রণকৌশল ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তবে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগের এই মুহূর্তটি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য বেশ জটিল। কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করেন, যিনি যুদ্ধের ময়দানে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছিলেন। এই বরখাস্তের ঘটনাকে ঘিরে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক জনরোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে উদ্ভূত, যা সরকারের স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা দীর্ঘদিনের সোভিয়েত আমলের কাঠামো পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জও দ্রাপাতির সামনে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জেনারেল স্টাফের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি এখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর আদলে সামরিক সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দ্রাপাতির নিয়োগ সামরিক বাহিনীর মনোবল বাড়ালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দ্রাপাতির নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, এই ধরনের রদবদল ফ্রন্টলাইনে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না এবং রাশিয়ার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন নির্ভর করছে ইউক্রেনের নতুন করে সেনা সমাবেশের সাফল্য, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং রাশিয়ার পাল্টা রণকৌশলের ওপর। বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%