মার্কিন আপিল আদালতে জয়ী জর্জিয়াটনের শিক্ষক বদর খান সুরি মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারপ্রান্তে

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বদর খান সুরিকে পুনরায় বন্দি করার সরকারি প্রচেষ্টাকে খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত। ভার্জিনিয়াভিত্তিক চতুর্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ ২-১ ভোটে এই রায় প্রদান করে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর এক বড় আইনি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ফেডারেল অভিবাসন আইন নিম্ন আদালতের বিচারককে সুরিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে না।
ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরিকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক বিদেশি নাগরিককেই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আপিল আদালত সুরির আইনজীবীদের সেই যুক্তিকেই সমর্থন করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, তার আটকাদেশ মার্কিন সংবিধানপ্রদত্ত বাকস্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন। একই সাথে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের আবেদনও আদালত নাকচ করে দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, কোনো অনাগরিক যদি তার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন, তবে অভিবাসন প্রক্রিয়ার রায়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা তার অধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর ভার্জিনিয়া শাখার লিগ্যাল ডিরেক্টর ইডেন হেইলম্যান এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃপক্ষ সুরিকে পাঁচটি ভিন্ন বন্দিশালায় সরিয়ে নিয়েছিল, যা ছিল আইনবহির্ভূত আটকাদেশকে বৈধতা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।
তবে এই রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতগুলোতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহসেন মাহদাওয়ি এবং মাহমুদ খলিলের মুক্তির নির্দেশ উল্টে দিয়েছিল। ওইসব রায়ে বলা হয়েছিল, এ ধরনের মামলা অভিবাসন আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত, ফেডারেল বিচার বিভাগে নয়। বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন আদালতের এসব বিপরীতধর্মী আদেশের কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রবাসীদের বহিষ্কারের জন্য একটি বিশেষ অভিবাসন আইনের ধারা ব্যবহার করছে, যা পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত ব্যক্তিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। আগামী দিনে বদর খান সুরি, খলিল এবং মাহদাওয়ি—এই তিনটি মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় যুক্তরাষ্ট্রের অনাগরিকদের নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে ছয়-তিন রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ট্রাম্প কর্তৃক মনোনীত বিচারপতিদের উপস্থিতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশটির অভিবাসন আইনি কাঠামোকে আমূল বদলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা