ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর, বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরানের নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে তেহরানের ধারাবাহিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি রয়েছেন এবং এর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে ইরানের বিভিন্ন সেতু ও সুড়ঙ্গসহ অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও গত বৃহস্পতিবার জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েতের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংস করেছে, যা তাদের দেশের একই ধরনের অবকাঠামোয় মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব।
কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের আবদালি সীমান্ত ক্রসিংয়েও শত্রুঘাঁটি থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ তাদের এই প্রতিশোধমূলক তৎপরতাও চলবে। এই সংঘাতের ফলে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবারই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ইরানের অবকাঠামোয় কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তেহরান ‘চোখ উপড়ে নেওয়া’র মতো কঠোর জবাব দেবে। এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে। হুতিদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এটি অকল্পনীয় বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। হুতিরা সৌদি আরবের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বাব আল-মানদেব প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাইস্ট্যাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ সতর্ক করেছেন যে, কৌশলগত ও বাণিজ্যিক তেলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্ব বাজার দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের এই বহুমুখী বিস্তৃতি বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা