আল-আকসা প্রাঙ্গণে বেন-গভিরের উসকানিমূলক প্রবেশে তীব্র উত্তেজনা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে শত শত ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর উসকানিমূলক প্রবেশ ও কর্মকাণ্ড ঘিরে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইহুদিদের শোকের দিন ‘তিশা বি’আভ’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই অনুপ্রবেশকে চলতি বছরের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পবিত্র স্থানটির দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা ও ধর্মীয় মর্যাদা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৫ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রথাগতভাবে অর্থোডক্স ইহুদিরা আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও ধর্মীয় জায়নবাদী আন্দোলনের উত্থানের ফলে আইন অমান্য করে সেখানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। ভারী পুলিশি নিরাপত্তায় আল-আকসায় প্রবেশ করে বেন-গভির দাবি করেন, বর্তমান সরকার ইহুদিদের মালিকানার অনুভূতি সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তিনি সেখানে সিনাগগ স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বেন-গভিরের তত্ত্বাবধানে থাকা ইসরায়েলি পুলিশ এ সময় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অনেক বসতি স্থাপনকারীকে সেখানে প্রার্থনা, এমনকি ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা গেছে। একই সময়ে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মুসলিম কবরস্থানে ভাঙচুর ও ফিলিস্তিনি পথচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৬ জন ইহুদি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সরকার পরিকল্পিতভাবে এই পবিত্র স্থানের ধর্মীয় ও ভৌগোলিক মর্যাদা পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন অক্টোবর মাসের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটব্যাংক সংহত করতেই বেন-গভিরের মতো কট্টরপন্থীরা এই উসকানিমূলক কৌশল অবলম্বন করছেন। লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অহারন ব্রেগম্যানের মতে, ইসরায়েলি সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থায় বসতি স্থাপনকারীদের প্রভাব এতটাই গভীরে পৌঁছেছে যে, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের পক্ষেই তাদের এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি কেবল একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সূচনা মাত্র।

বিজ্ঞাপন

চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ইয়োসি মেকেলবার্গের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আসন্ন নির্বাচনটি অত্যন্ত বিষাক্ত ও অস্থিতিশীল হতে চলেছে। নির্বাচনের আগে গাজার সীমান্তে বসতি পুনঃস্থাপনের দাবি বা পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনের মতো উসকানিমূলক বয়ানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের উগ্রবাদী রাজনীতির এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%