সিকিমের সুড়ঙ্গ ধসে নিহত ২০, জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গপথে বিষাক্ত গ্যাস এবং পানি জমে থাকায় ভেতরে আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ২৫ জন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও সাত থেকে আটটি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন, তবে বৈরী পরিস্থিতি ও জমে থাকা পানির কারণে সেগুলো এখনো বাইরে আনা সম্ভব হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্রকল্পে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, ভূগর্ভস্থ পাথরের খাঁজে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণে সুড়ঙ্গটি ধসে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ উদ্ধার তৎপরতাকে আরও ব্যাহত করছে।

ভারতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। তবে পরিবেশবিদদের মতে, হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অপরিকল্পিত উন্নয়নযজ্ঞ বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করছে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অস্থিতিশীল শিলাস্তরের কারণে এই পাহাড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গ খনন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞাপন

গত বছর উত্তরাখণ্ডের একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার ঘটনায় ৪১ জন শ্রমিক দীর্ঘ ১৭ দিন আটকা পড়েছিলেন, যাদের শেষ পর্যন্ত সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তবে সিকিমের এই ঘটনায় প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীদের মধ্যে বেঁচে থাকার আশা আর অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশদ তদন্ত পরিচালনা করা হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%