চীনা ড্রোনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় চীন থেকে আমদানিকৃত উন্নত ড্রোন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যেসব ড্রোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝাঁক বেঁধে উড়ার সক্ষমতা এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইনফ্রারেড থার্মাল ইমেজিং সেন্সর রয়েছে, সেগুলোর প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মূলত ডিজেআই এবং অটেল রোবটিক্সের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই ওয়াশিংটন এই বিধিনিষেধ আরোপের পথে হাঁটছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে এফসিসি ডিসেম্বরে প্রবর্তিত বিশেষ ছাড়ের সময়সীমা ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে, চীনা ড্রোন প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলার কয়েকদিন পরই এমন কঠোর অবস্থান নিলো ওয়াশিংটন, যা বিদেশি নজরদারি প্রযুক্তির বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের নমনীয়তা ত্যাগেরই বহিঃপ্রকাশ।

এফসিসির ভাষ্যমতে, ড্রোন সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর আগে ২০২২ সালে হুয়াওয়ে এবং জেডটিইর মতো চীনা ব্র্যান্ডের টেলিকমিউনিকেশন ও ভিডিও নজরদারি সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করেছিল এফসিসি। সে সময় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন যে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের বা ৫জি নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটানো এবং গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিকমিউনিকেশন সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে মার্কিন প্রশাসনের রোষানলে পড়ে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘সিকিউর অ্যান্ড ট্রাস্টেড কমিউনিকেশনস নেটওয়ার্কস অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেবাগুলোকে চিহ্নিত করার আইনি কাঠামো প্রদান করে। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গড়ে ওঠা ঐকমত্যকেই পুনর্ব্যক্ত করে, যেখানে বিদেশি ড্রোন প্রযুক্তিকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%