ইতালির বোলোনিয়ায় পুলিশি হেফাজতে মরক্কোর নাগরিকের মৃত্যুতে তীব্র বিক্ষোভ

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর বোলোন্যায় পুলিশের হেফাজতে আবদেররাহিম ফাকির নামের এক মরক্কো বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়াল্লিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় শহরটিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাটিতে উপুড় করে ফেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ফাকিরকে চেপে ধরে আছেন। এ সময় তাকে বারবার ‘সাহায্য করুন, যথেষ্ট হয়েছে’ বলে আকুতি জানাতে শোনা যায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পুলিশ কর্মকর্তারা তার হাতকড়া পরানোর আগে গোলমরিচের স্প্রে ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে তার পা বেঁধে ফেলেন। ঘটনার অনেক পরে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।

নিহত ফাকিরের এক ভাই ইতালীয় পত্রিকা কোরিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তার ভাই বারবার সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় বোলোন্যার কৌঁসুলিরা একটি নতুন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় তদন্ত শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বডিক্যাম থেকে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ তলব করেছেন।

এদিকে, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির অতি-ডানপন্থী উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনিসহ সরকারি জোটের একাধিক নেতা পুলিশের এমন আচরণকে সমর্থন জানিয়ে তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

বাম-মধ্যপন্থী আইনপ্রণেতা ফ্রান্সেসকো বোচিয়া সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশি মডেল অনুসরণ করলে ইতালিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের প্রতীকী ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ মানুষ। শহরের মেয়র এবং প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সমর্থনপুষ্ট এই বিক্ষোভ ইতালিতে পুলিশি ক্ষমতার ব্যবহার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%