দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, মোদি সরকারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়েছেন অন্তত ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের দিকে যাত্রাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সরকারি পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই তরুণদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল চাপের সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

চলমান এই বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রবীণ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বলপূর্বক হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা। ৫৯ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারী টানা তিন সপ্তাহ ধরে অনশন চালিয়ে আসছিলেন। সোমবারের এই বিশাল জমায়েত মোদী সরকারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। আন্দোলনকারীরা মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।

চলমান সংকট নিরসনে মোদী সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনের মূল দাবি থেকে সরে আসতে নারাজ তরুণরা। আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সরকার আলোচনার জন্য যোগাযোগ করলেও তারা তাদের অবস্থানে অনড়। এদিকে আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা উত্তজনা আরও উসকে দিয়েছে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি মেট্রো স্টেশনসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

দিল্লি পুলিশের উপ-কমিশনার শচীন শর্মা বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, জনাকীর্ণ স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে, যা সরকারি বিবৃতির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

বিজ্ঞাপন

মূলত ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনার জের ধরেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বাতিল হওয়া পরীক্ষাটি প্রায় ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীকে পুনরায় দিতে হয়েছে। এই ঘটনার পর মানসিক চাপে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করার মতো মর্মান্তিক পথ বেছে নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ উপাধিটি গ্রহণ করে আন্দোলনকারীরা একে সাহসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ রাজপথের গণবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%