ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

হরমোজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে গত শুক্রবার ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর ও তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ভোরের দিকে দেশটির হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকা এবং কাশম দ্বীপে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিরিকে প্রথম আঘাত হানে মার্কিন যুদ্ধবিমান। এরপর ভোর ৩টা ৩৮ মিনিট এবং ৬টা ১০ মিনিটে কাশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়। এছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের শাদগান এলাকার কাছেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
চলমান সংঘাতের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৩০ জনেরও বেশি। এদিকে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আল-আদিরি ক্যাম্পে অবস্থিত গোলাবারুদের গুদাম এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির পেট্রিয়ট রাডার ও এয়ার রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের কুম, আরাক ও বেহবাহান এলাকায় বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন তা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে।
যুদ্ধের পরিধি এখন হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়িয়ে বেসামরিক অবকাঠামোর দিকে বিস্তৃত হয়েছে। ইআরএনএ-এর প্রতিবেদন মতে, বনজি লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছে। এছাড়া কাশম দ্বীপের একটি প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বন্দর খামিরে মার্কিন হামলায় সাতজন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে সোগান্দ দার্দমান্দ ও ফাতেমেহ জাহরা আকবরি নামের দুই শিশুও রয়েছে।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা আট রাতের হামলায় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই জটিল পরিস্থিতির কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিদাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং তারা তা আর কার্যকর করছে না। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখলে তাদের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা