২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে পুরনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফের সামনে আনলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক বিশেষ ভাষণে তিনি দাবি করেছেন, চীনসহ বিদেশি শক্তিগুলো কারচুপির মাধ্যমে ওই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে ট্রাম্পের এই দাবি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে ট্রাম্প কিছু গোপন নথি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছিল যে, চীন ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো ভোট পরিবর্তন করার চেষ্টা করেনি। ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, চীন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলেও তা নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ছিল না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা। সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এক মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চীনের অভ্যন্তরীণ নীতি হলো অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামক একটি নতুন ভোটার শনাক্তকরণ আইন পাসের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন, যা ভোটারদের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করবে। ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার কারণে আইনটি সিনেটে থমকে আছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ড মূলত মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

বিজ্ঞাপন

এর আগেও ট্রাম্পের এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছিল, যার চরম পরিণতি দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলার মাধ্যমে। জনমত জরিপ এবং বিভিন্ন নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মেইল-ইন ব্যালট বা অন্যান্য পদ্ধতিতে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ ট্রাম্প করে আসছেন, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে কিছু প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বড় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশেষত ভেনেজুয়েলার ভোট জালিয়াতির সক্ষমতার যে উদাহরণ ট্রাম্প টেনেছেন, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং মার্কিন যন্ত্রপাতির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%