মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। ৭১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার কার্যালয়। সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করা এই নেতা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। রবিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘সত্যিকারের আমেরিকান দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন অত্যন্ত কট্টরপন্থী এবং আগ্রাসী ধারার সমর্থক। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে কিয়েভকে নিঃশর্ত সমর্থন প্রদান থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া—সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। ইরান শাসনামলের পরিবর্তন এবং দেশটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার পক্ষেও তিনি বারবার কণ্ঠ তুলেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
ইসরায়েলের প্রতি তার অকুন্ঠ সমর্থনের অংশ হিসেবে তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিসংবাদিত রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের রেজুলেশনে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন। এমনকি গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের সময়ও তিনি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বিশেষ করে গাজায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকির সঙ্গে তুলনা করায় তার তীব্র নিন্দা হয়েছিল।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে লিন্ডসে গ্রাহাম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের একজন প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়া এবং লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে মার্কিন সেনা অভিযানের পক্ষে তার অবস্থান ছিল অবিচল। ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থনের কারণে রাশিয়ার রোষানলে পড়েছিলেন তিনি; এমনকি ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। তবে এসব বিষয়কে গ্রাহাম ‘সম্মানের প্রতীক’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রাথমিক জীবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোর সমালোচক হলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতা মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশেষ সমীকরণের জন্ম দিয়েছিল, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান আস্থাভাজন ও কৌশলগত উপদেষ্টায় পরিণত হন। দীর্ঘদিনের সামরিক হস্তক্ষেপের সমর্থক ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে লিন্ডসে গ্রাহাম মার্কিন রাজনীতিতে এক মেরুকরণ সৃষ্টিকারী চরিত্র হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা