ইউরোপে রেকর্ড উষ্ণ জুন মাসে মৃত্যু মিছিলে হাজারো প্রাণহানি

ইউরোপজুড়ে জুন মাসে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন এবং বেলজিয়ামে এই প্রাণহানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসের উষ্ণতম জুন মাস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে গত মাসটিকে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এবারের জুন মাসের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধে সৃষ্ট তীব্র দাবদাহের কারণে পশ্চিম ইউরোপে গড় তাপমাত্রা ২০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা নতুন রেকর্ড। বৈশ্বিকভাবেও গত জুনে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় এই তাপমাত্রা ১.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে কোপার্নিকাস নিশ্চিত করেছে।
এই তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট ‘হিট ডোম’ বা উচ্চচাপ বলয় অনেকটা ফুটন্ত পাত্রের ঢাকনার মতো কাজ করেছে। এএফপির বিশ্লেষণ বলছে, জুনের দাবদাহের সময় ইউরোপের প্রায় ৪১ কোটি মানুষ, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য হয়েছেন। ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সামান্থা বার্গেসের মতে, উচ্চ আর্দ্রতার কারণে রাতেও তাপমাত্রা কমেনি, ফলে টানা কয়েক রাত তীব্র গরম অনুভূত হয়েছে।
কোপার্নিকাসের তথ্যমতে, মেরু অঞ্চল ছাড়া বিশ্বের মহাসাগরগুলোর গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা জুনে ২০.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সমুদ্রের জলরাশি অস্বাভাবিক গরম থাকায় রাতে সমুদ্র থেকে শীতল বাতাস আসার সুযোগ ছিল না, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতির কারণে দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আইবেরিয়ান উপদ্বীপ ও দক্ষিণ ফ্রান্সের বাস্তুসংস্থানকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ হিসেবে ইউরোপে বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণে দাবদাহের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা দিন দিন বাড়ছে। স্যাটেলাইট, জাহাজ, বিমান এবং আবহাওয়া কেন্দ্রের বিলিয়ন বিলিয়ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোপার্নিকাস নিয়মিত এই বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোরই ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা