দামেস্কে ধারাবাহিক বোমা হামলার পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে একের পর এক প্রাণঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত ২ জুলাই একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফরের সময় জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে দামেস্কের রাজপথে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে একটি রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপে এবং অন্যটি একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর লুকানো ছিল। এই সমন্বিত হামলায় অন্তত একজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার স্থানটি ফরাসি প্রেসিডেন্টের অবস্থানের হোটেলের কাছাকাছি হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সরাসরি কোনো হুমকির মুখে পড়েননি।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নতুন করে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সরকারি কার্যালয়, বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কূটনৈতিক এলাকাগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কংক্রিটের দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুরুদ্দিন আল-বাবা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করার মতো প্রাথমিক তথ্য হাতে এসেছে এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

গত সপ্তাহে দামেস্কের প্যালেস অব জাস্টিসের পাশে একটি ব্যস্ত ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে সাম্প্রতিক হামলার মিল রয়েছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির ১৮ মাস পার হলেও এসব হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান সমর্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের সাথে যুক্ত একটি ফিলিস্তিনি-সিরীয় সেলের সদস্যরা এই হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হামলার ঘটনাটিকে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সিরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এক ডজনেরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল তল্লাশি চৌকি বাড়িয়ে এই ধরনের অপ্রতিসাম্য যুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব নয়। আরব সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাভার সাবান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে যখন সিরিয়া স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা জনমনে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একদিকে যেমন নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে পুনর্গঠন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা প্রমাণেও মরিয়া। দামেস্কের রাস্তায় এখন এক অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ভঙ্গুর শান্তির বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%