হিউস্টনে অভিবাসন সংস্থার গুলিতে মেক্সিকান নাগরিক নিহত, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো নামের এক মেক্সিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সময় গাড়ি থামানোর নির্দেশ অমান্য করলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশটিতে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্যমতে, লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করে গাড়িটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিহত ব্যক্তির ছেলে রোনালদো সালগাদো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার বাবা সেই এলাকায় শ্রমিক সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি সাদা ভ্যানের পাশে এক ব্যক্তি পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে রেখেছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

ফেডারেল কর্মকর্তাদের এই দাবির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রিত্তি নামের ব্যক্তিদের হত্যার ঘটনায়ও আইসিই একই ধরনের আত্মরক্ষামূলক যুক্তি দিয়েছিল, যা পরে স্থানীয় সাক্ষী ও কর্মকর্তাদের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। এর আগে গুডের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে আইসিই তাদের কিছু বিতর্কিত কার্যক্রম থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সব ধরণের ফুটেজ ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করে একটি স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি। লিগ অফ ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুয়ান প্রোয়ানোও একই সুর মিলিয়েছেন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একতরফা দাবি প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণাঙ্গ ভিডিও প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি আইসিই গ্রেপ্তার অভিযানের মাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছেন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হিউস্টনের এই প্রাণঘাতী সংঘাত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%