ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার শুরু অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লক্ষ্যে ম্যানিলায় শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক অভিশংসন বিচার। দুর্নীত, ঘুষ গ্রহণ এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস কর্তৃক অভিশংসিত হওয়ার পর সোমবার রাজধানী ম্যানিলার সিনেট ভবনে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলার রায় সারা দুতার্তের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সিনেট ভবনকে ঘিরে সোমবার হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়, যেখানে দুতার্তের পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়েছেন। বিচারের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ভাইস প্রেসিডেন্ট সশরীরে আদালতে উপস্থিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আইনগত প্রতিনিধি মাইকেল পোয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

সারা দুতার্তে অবশ্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়া মানে দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়া বা স্বচ্ছতার অভাব নয়। উল্লেখ্য, ২৪ আসন বিশিষ্ট সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দোষী সাব্যস্ত করার রায়ের ওপর নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক জীবনের স্থায়িত্ব। মে মাসের শেষ দিকে পরিচালিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ ভোটার এখনো তাকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইছেন, তবে এই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে সেই জনসমর্থনে ভাটা পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ও সারা দুতার্তে উভয়েই ফিলিপাইনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী। ২০২২ সালের নির্বাচনে তারা যৌথভাবে জয়ী হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল ধরে, যা গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হস্তান্তরের পর চরম রূপ নেয়। এই বিবাদের রেশ ধরে দেশটির পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিয়েছে এই অভিশংসন মামলা।

বিজ্ঞাপন

বিচার শুরুর প্রাক্কালে সারা দুতার্তের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর রদান্তে মার্কোলেতাকে প্লান্ডার বা লুণ্ঠন মামলায় গ্রেফতার করা হলে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পাশাপাশি, আরেক মিত্র সিনেটর রোনাল্ড ‘বাটো’ দে লা রোসার অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এবং পার্লামেন্ট ভবনে গোলাগুলির ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। ফিলিপাইনের এই রাজনৈতিক ডামাডোল আগামী কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%