ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষে হুথি বিদ্রোহীসহ নিহত ৬৫ জনেরও বেশি

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় হুদাইদাহ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে পাল্টা অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি হুথি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে এই সংঘাতকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ওয়ালিদ আল-কুদাইমি শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানান, জাবাল দাব্বাস এলাকায় নিজেদের ভূমি ও মর্যাদা রক্ষায় লড়াই করতে গিয়ে তিহামা অঞ্চলের ওই সেনারা শহীদ হয়েছেন। এ সময় আরও বহু হুথি যোদ্ধা আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাবাল দাব্বাসে দায়িত্বরত সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে হুথিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে সরকারি বাহিনীর কিছু অবস্থান দখল করে নেয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে শনিবার ভোর নাগাদ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে ২৩ জন সরকারি সেনা আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, হুথিরা স্নাইপারের মাধ্যমে প্রথমে আঘাত হানে, যা অধিকাংশ প্রাণহানির কারণ হয়। এরপর তারা ড্রোন ও মর্টারের মাধ্যমে সরকারি অবস্থানে আক্রমণ চালায়। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে চালানো হুথিদের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের গৃহযুদ্ধ চলছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রাজধানী সানাসহ উত্তরের বিশাল অংশ এবং হুদাইদাহ বন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে সরকার দক্ষিণভাগের বেশিরভাগ অঞ্চল নিজেদের দখলে রেখেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে রণক্ষেত্রগুলো অনেকাংশে স্থিতিশীল থাকলেও মাঝেমধ্যেই এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই এই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা