ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মে ব্রুস লি দিবস হিসেবে পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি

ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে মার্শাল আর্ট কিংবদন্তি ব্রুস লি-কে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে প্রতি বছরের ১৭ মে তারিখটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রুস লি দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সান ফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণকারী এই আইকনকে কেবল একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্শাল আর্টিস্ট নয়, বরং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সেতুবন্ধন হিসেবে স্মরণ করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

১৯৪০ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণকারী ব্রুস লি শৈশবের বড় একটি সময় হংকংয়ে অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালের ১৭ মে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি পুনরায় নিজ শহর সান ফ্রান্সিসকোতে ফিরে আসেন। ব্রুস লি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার কন্যা শ্যানন লি এই সম্মাননার প্রতিক্রিয়ায় জানান, তার বাবার দর্শন ও কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা শিখিয়েছে। তিনি বলেন, তার বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার আজ বিভিন্ন সংস্কৃতিকে এক সুতোয় গেঁথেছে এবং রূপালী পর্দায় এশীয়-মার্কিনদের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হানি ব্রুস লি-কে ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে সময়ে এশীয় বংশোদ্ভূতরা হলিউডের পর্দায় কেবল বর্ণবাদী ও সীমাবদ্ধ চরিত্রে অভিনীত হতেন, সেই প্রতিকূল সময়ে ব্রুস লি নিজ দক্ষতায় বিশ্বজুড়ে মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। বিভিন্ন এশীয়-মার্কিন গোষ্ঠী ও ব্রুস লি ফাউন্ডেশনের প্রত্যাশা, প্রতি বছর এই দিনে সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, জনসমাবেশ ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার জীবন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্রুস লি শৈশবে হংকংয়ে গিয়ে কুংফুর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং শিশুশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৬১ সালে সিয়াটলের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে ভর্তি হলেও মার্শাল আর্ট শেখানোর নেশায় তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ষাটের দশকে হলিউডে ‘দ্য গ্রিন হর্নেট’ ধারাবাহিকে কাটো চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। তবে তৎকালীন হলিউড স্টুডিওগুলোতে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে তিনি হংকংয়ে ফিরে যান এবং ‘দ্য বিগ বস’ ও ‘ফিস্ট অব ফিউরি’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯৭৩ সালে অকাল প্রয়াত হওয়া এই কিংবদন্তির প্রভাব আজও বিশ্ব সংস্কৃতিতে অম্লান।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%