এপস্টেইন–সংক্রান্ত হাজারো নথি ওয়েবসাইট থেকে সরাল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত হাজার হাজার নথি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। নথি প্রকাশের ফলে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেয় সংস্থাটি। খবর জানিয়েছে বিবিসি।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিগুলোতে তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি বা যথাযথ ‘রিড্যাকশন’ না থাকায় প্রায় ১০০ জন ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণভাবে ওলটপালট হয়ে গেছে। ওই নথিতে ইমেইল ঠিকানা, নগ্ন ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম ও চেহারা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই তাদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই বা পুনরায় মানসিক ট্রমার মধ্যে ফেলে দেওয়া উচিত নয়। ডিওজে জানিয়েছে, যেসব নথির বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, সেগুলো ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে ডিওজে জানায়, রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই ভুক্তভোগী বা তাদের আইনজীবীদের অনুরোধ করা সব নথি আরও উন্নতভাবে রিড্যাকশনের জন্য সরানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আসা অনুরোধগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একটি প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে মার্কিন বিচার বিভাগকে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধ্য করেছিল। তবে সেই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা যায়—এমন সব তথ্য অবশ্যই গোপন রাখতে হবে।
মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এপস্টেইনের ভুক্তভোগী অ্যানি ফার্মার বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ ডিওজে যেভাবে ভুক্তভোগীদের তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা ভয়াবহ।
আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস অভিযোগ করে বলেন, ডিওজে তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তই লঙ্ঘন করেছে। প্রথমত, অনেক নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, প্রকাশের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। তৃতীয়ত, অনেক ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, তারা আমাদের সঙ্গে এক ধরনের খেলা খেলছে।’
নারী অধিকারবিষয়ক আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড বিবিসিকে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নামের ওপর দাগ টানা হলেও তা স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছে। আবার কোথাও এমন ভুক্তভোগীদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যারা কখনো গণমাধ্যমে কথা বলেননি বা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষাকে সংস্থাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে। তিনি দাবি করেন, নিরপরাধদের রক্ষায় প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ পাতার নথির মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর একটি আইনের মাধ্যমে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে ডিওজে এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ফাইল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং প্রায় ২ হাজার ভিডিও। শুধু গত শুক্রবারই এই বিপুল পরিমাণ নথির একটি বড় অংশ প্রকাশ করা হয়।