যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অব্যাহত তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে মতভেদ তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রগতি নিয়ে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এবং শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ফারাক বিদ্যমান। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই সরাসরি সংলাপ শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই আলোচনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে। এর ফলে সাগরে ভাসমান প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চললে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না। অন্যদিকে, উত্তেজনা নিরসনে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান।
দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ এবং পারমাণবিক তদারকি ব্যবস্থা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যবহৃত হবে এবং ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের জব্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং আইএইএ পরিদর্শকদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী দিয়ে সারা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধি পায়। বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে বেরিয়ে আসার পর থেকেই তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বর্তমানে ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ওয়াশিংটন। যদিও চুক্তির বর্তমান পর্যায় নিয়ে দুই পক্ষই ইতিবাচক মন্তব্য করছে, তবে ইউরেনিয়াম মজুত হ্রাস এবং নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে এখনো দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা