দিল্লিতে চাকরিপ্রার্থীদের উত্তাল বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় তরুণ প্রজন্ম

নয়াদিল্লির তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকরা। মূলত জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই রাজধানী দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির তরুণ সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আর হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক ডিগ্রিধারী অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ২৫ বছরের নিচে। নিয়োগ পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলে ব্যাপক অসামঞ্জস্যের ঘটনায় চরম হতাশ ও দিশেহারা তরুণ প্রজন্ম এখন এই আন্দোলনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অভিজিৎ দিপক সেই মন্তব্যকে উপহাস করে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন—সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে? সেই থেকে যাত্রা শুরু করে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ শুরুর পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং নাগপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ১৮ বছর বয়সী শচীন কুমার জানান, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তার সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তার মতো লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে এখন সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ঘোরতর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ প্রশমনে সরকার টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিলেও সমালোচকরা একে ‘সাময়িক প্রলেপ’ হিসেবেই দেখছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে সারাদেশে এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা।

দিল্লি পুলিশ কয়েক দফা অবরোধ ও খাদ্য-পানীয় সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। অভিজিৎ দিপক দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের নজির না থাকলেও, তরুণ প্রজন্মের এই জেদি আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%