সুইজারল্যান্ডে আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা লেবানন সংকটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল তেহরান

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আলোচনা আগামীকাল রবিবার শুরু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হবেন পাকিস্তান ও কাতারের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা। সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এর আগে শুক্রবার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার প্রতিবাদে তেহরান প্রতিনিধি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, যার ফলে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন।

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবারের ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর শনিবার হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার সতর্ক করে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে থাকবে।

এই উত্তেজনা সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর সাধারণ এলাকায় তাদের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক নৌচলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে ওই পথ অতিক্রম করেছে বলে পেন্টাগন দাবি করেছে। তবে আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও পরিস্থিতি উন্নতির পরিবর্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে তারা এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড সমঝোতা স্মারকের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছে তেহরান। সব মিলিয়ে, আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না কূটনৈতিক মহলে। তবে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%