লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ, ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন এবং ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সমঝোতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুটিই বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-তে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী তা উপেক্ষা করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে সেখানে তাদের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষকে শান্তি চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে লেবানন, হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের সব রণাঙ্গনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রত্যাশা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তেল ও শেয়ার বাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতি ধরে রাখতে এই শান্তি রক্ষা করা জরুরি।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হবে না। গত শুক্রবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রযুক্তিগত আলোচনার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি জানিয়েছেন, ইরান লেবানন ইস্যুতে তাদের অবস্থানে অটল এবং তারা এ নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড এখন মার্কিন প্রশাসনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা অবস্থায় বৈরুতে বেসামরিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, যা কার্যত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ ডুস মনে করেন, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রধান উৎসই হচ্ছেন নেতানিয়াহু। তিনি গাজা ও ইরান ইস্যুর মতো লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর এই একগুঁয়েমি রুখতে প্রয়োজনীয় কঠোর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করতে প্রস্তুত কি না, কারণ ট্রাম্প নিজেই এই সমঝোতাকে তার শাসনামলের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে দেখতে চাইছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
