ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ভ্যান্স, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অনিশ্চয়তার মুখে সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শেষ মুহূর্তে ভ্যান্স তার সফর স্থগিত করেছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ। এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনব্যাপী একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই উদ্যোগের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ইরান মূলত ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে চায়, যার আওতায় লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তেহরান মনে করে, মাঠ পর্যায়ে চুক্তির প্রতিফলন না দেখা পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসা অর্থহীন।

দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটছে না। সমালোচকদের মতে, চুক্তির শর্তাবলি অস্পষ্ট এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%